শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন প্রফেসর নাসিম উদ্দিন মালিথা স্মরণে শাহজাদপুরে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে সিআইজি ও ননসিআইজি খামারী সমাবেশ কাজিপুরে মা ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে তিন জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজিপুরের মেঘাইঘাট ও পর্যটন কেন্দ্রের পাশ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কারনে চার জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আধুনিক ও নিরাপদ শহর গড়ে তুলবো – সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী গোলাম কবির সিংড়ায় এক ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার সিংড়ায় ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে ১ জন আটক সিরাজগঞ্জে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিয়ের ৩দিনের মাথায় স্বামীকে হাত পা বেঁধে কুপিয়ে জখম করেন নববধূ অসহায়ের কান্না কি শুনতে পান?
আত্মহত্যার ভয়াবহতা ও করণীয়

আত্মহত্যার ভয়াবহতা ও করণীয়

 

আত্মহত্যা বা আত্মহনন হচ্ছে কোন ব্যক্তির দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ। ব্যক্তি যখন জীবনে চরম হতাশায় ভোগে এবং সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা কমে যায় তখন সাধারণত আত্মহত্যা করে।

 

 

কিন্তু আত্মহহত্যা কি কোন সমাধান? সে কি জীবনের কাছে হেরে গেল না?
একজন আত্মঘাতক শুধু নিজের অস্তিত্ব নি:শেষ করে ফেলে না, তার পরিবারের জীবনে অপূরণীয় গভীর ক্ষত ফেলে যায়।শুধু কি তাই, এটি যে অন্য কাউকে অনুসরণে প্রভাবিত করবে না, তার কি নিশ্চয়তা।

 

 

 

বিশ্বে নারীদের তুলনায় পুরুষদের আত্মহহত্যার হার বেশি হলেও, বাংলাদেশে এ চিত্র বিপরীত। বিবিসি নিউজে প্রকাশিত ন্যানসেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে আত্মহহত্যার প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি।

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে আট লাক্ষের বেশি মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।অর্থাৎ প্রতি ৪০ সেকেন্ডে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও একজন মানুষ আত্মহহত্যা করে।এবং অগণিত মানুষ আত্মহহত্যা করার চেষ্টা করে।পৃথিবীতে যত মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করে,তার মধ্যে ২.০৬ শতাংশ বাংলাদেশী।বাংলাদেশে প্রতিবছর লাখে ১২৮.০৮ জন মানুষ এবং প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে,আর এই আত্মহত্যার হার শহরের চেয়ে গ্রামে ১৭ গুণ বেশি।

 

 

 

আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় কারণ ডিপ্রেশন।দেশে আত্মহত্যার জন্য বিভিন্ন কারণ যেমন: যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, দাম্পত্য কলহ, মাদকাসক্তি,ইভটিজিং,পারিবারিক জটিলতা, প্রেম ও পরীক্ষায় ব্যর্থতা,অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদি কারণ দায়ী।

 

 

 

বাংলাদেশে পরিচালিত এক গবেষণায়, পারিবারিক সমস্যা (৪১.২%),পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া (১১.৮%),ভালবাসায় কষ্ট পাওয়া (১১.৮%),স্বামীর অত্যাচার(৫.৯%) এবং অর্থকষ্ট (৫.৯%)থেকে রেহাই পেতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

এ সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই সমাধানের চেষ্টা করা জরুরী। এজন্য বিভিন্ন দিকে দৃষ্টিনিবন্ধ করা যেতে পারে।যেমন:

– ভালো পারিবারিক গুরুত্বপূণ ভূমিকা রাখে।পরিবারের সদস্যদের উচিত পরস্পরকে বুঝার চেষ্টা করা।

 

 

 

– ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চচা আত্মহত্যার ঝুঁকি কমায়।সাধারণত আামাদের ধর্মিয় দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যাকে মহাপাপ হিসেবে ধরা হয়।এছাড়া নৈতিক মূল্যবোধের চাচ মানুষকে এ পথ থেকে বিরত রাখতে পারে।

 

 

 

– কেউ হতাশাগ্রস্ত হলে বা সমস্যার কথা বললে,তার সমস্যা অনুধাবণ করা এবং সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা জরুরি।যখন একজন মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয় তখন সে চরম একাকিত্ব অনুভব করে।তাই অন্যরা তার সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে তার পাশে থাকলে সমাধান হতে পারে।

 

 

 

 

– কেউ ডিপ্রেশন বা হতাশাগ্রস্ত হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হতে হবে।

সবো পরি এ সমস্যা সমাধানে সকলকে সচেতন হতে হবে।আত্মহত্যা যে কোন সমাধান নয় এটি বুঝতে হবে এবং এক অমূল্য জীবনকে ভালোবাসতে হবে।

 

 

 

 

লেখিকা
সায়মা আলম
শিক্ষাথী,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
Design & Developed BY RSK HOST