শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিলের টাকার সিংহভাগ নয়ছয় হওয়ার অভিযোগ ফ্রান্সে মহানবীর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ নাগরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা:গ্রাম্য সালিশে বিচার না পেয়ে থানায় মামলা মধুপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ)মাহফিল অনুষ্ঠিত আসছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লুপর্ণা মূৎসূর্দ্দী লোপার নতুন মিউজিক ভিডিও চৌহালীতে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ভোট চাইলেন নাসিমপুত্র জয় কারা হচ্ছেন কালিগঞ্জ বিএনপির কান্ডারী বেলকুচিতে যমুনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে ১৫ জেলের কারাদন্ড সিংড়া মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়
করোনাকাল হতে পারে মেধা, প্রতিভা ও দক্ষতা বিকাশের সময়   

করোনাকাল হতে পারে মেধা, প্রতিভা ও দক্ষতা বিকাশের সময়   

 

ক্ষুদ্র এক ভাইরাস করোনা। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গত বছরের ৩১ শে ডিসেম্বর প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। সেখান থেকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ ই মার্চ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথমে ছুটি হয় মার্চ মাসের ১৭ তারিখ থেকে ১৫ দিনের জন্য। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ছুটি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সর্বশেষ ছুটি বাড়ানো হয়েছে ৩ রা অক্টোবর পর্যন্ত। এই দীর্ঘ ছুটিতে অনেকেই চোখে সর্ষে ফুল দেখছে। এই কর্মহীন অলসকাল নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। তবে অভিযোগের বিপরীতে কেউ কেউ বলছে করোনাকাল তার জীবনের বসন্তকাল। যাইহোক, সকলেরই এই সময়ের সদ্ব্যবহার করা উচিত। আমি মনে করি, এটি মেধা, প্রতিভা ও দক্ষতা বিকাশের উপযুক্ত সময়। এই পৃথিবীতে যে যত বেশি দক্ষ, তার গুরুত্ব ততোই বেশি।
করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সাথে সংযুক্ত রাখার নিমিত্তে ইতোমধ্যে অনলাইনে ক্লাস শুরু হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পড়াশুনার তেমন চাপ নেই।  ফলে যারা কোরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে পারে না, এটি তাদের কোরআন তিলাওয়াত শেখার সুবর্ণ সুযোগ। বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই কোরআন তিলাওয়াত শেখা সম্ভব। হাদিস শরীফে আছে, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কোরআন শিখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।” (সহীহ বুখারী)। আর যারা কোরআন তিলাওয়াত করতে পারে তারা নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অভ্যাসে পরিণত করতে পারে। কোরআন তিলাওয়াত করলে ব্রেনে আলফা তরঙ্গ তৈরি হয়। মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গ বৃদ্ধি পেলে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়। স্নায়ুবিজ্ঞানীরাও মেনে নিয়েছেন যে, যদি মস্তিষ্কের আলফা তরঙ্গ স্টেজে যায় তবে একজন সাধারণ চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়া থেকে বেশি সৃজনশীল হয়ে উঠবে। কোরআন তিলাওয়াত শেখার পাশাপাশি হাদিস ও প্রয়োজনীয় মাসয়ালা – মাসায়েল শেখার এটাই উত্তম সময়। রাসূল(সাঃ) বলেছেন, “প্রত্যেক মুসলিম নর – নারীর দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।” (ইবনে মাজাহ)।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার চাপ থাকার কারণে ইংরেজি ভাষা শেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। ইংরেজিতে দুর্বলতা দূর করতে এবং ইংরেজি ভাষা আয়ত্তে আনতে এই সময়টা কাজে লাগানো যায়। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে ইংরেজি ভাষা শেখার গুরুত্ব অনেক। আবার অফিসিয়াল ভাষা হিসেবেও ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিযোগিতার বাজারে ইংরেজি ছাড়া সবই বিকল। সুস্থ দেহ খাদ্যের সব উপাদান (শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবন ও পানি) দরকার। তেমনি, ইংরেজির জন্য রাইটিং, লিসেনিং, স্পিকিং, রিডিং, গ্রামার, ভোকাবুলারি সব দরকার। ইংরেজি ভাষা শেখার প্রথম ধাপ লিসেনিং, দ্বিতীয় ধাপ স্পিকিং, তৃতীয় ধাপ রিডিং এবং সর্বশেষ ধাপ হল রাইটিং। আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলা এভাবেই শিখেছি। ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করার জন্য শব্দার্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শব্দার্থ পড়ার সময় আমাদের অবশ্যই বাক্যে প্রয়োগ করতে হবে। কারণ, বাক্যে প্রয়োগ না করলে শব্দার্থ বেশি দিন মনে থাকে না। এই প্রযুক্তির যুগে ইংরেজি শেখার জন্য আমরা অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে পারি। আর হ্যাঁ, প্র্যাকটিসের কোনো বিকল্প নেই। প্রবাদে আছে, -“গাইতে গাইতে গায়েন।”
করোনাকালে একঘেয়েমি না হয়ে বই পড়ে সময়টা উপভোগ করা সম্ভব। বর্তমানে অ্যাপস বা পিডিএফ এর মাধ্যমে খুব সহজেই যে কোন ধরনের বই পড়া যায়। বই মানুষের জ্ঞান আর আনন্দের অভাব সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে। বই পড়ায় মানুষের মনে আনন্দের সাথে এক নতুন অনুভূতি জন্ম দেয়। এটি আমাদেরকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, -“মানুষ বই দিয়ে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সাঁকো বেঁধে দিয়েছে।” সৃজনশীল চিন্তাভাবনা করার খোরাক জোগাতে এর কোন বিকল্প নেই। বিভিন্ন ধরনের বই বিভিন্ন ধরনের পাঠককে প্রচুর আনন্দ দিয়ে থাকে। জাতি স্বভাবত তার সাহিত্য শিক্ষার মাধ্যমে কৃষ্টি ও সভ্যতার জ্ঞান অর্জন করে। কথায় আছে, -“সাহিত্য জাতির দর্পণস্বরূপ।” সাহিত্য মানুষের অন্তরস্থ বিবেককে জাগিয়ে তোলে এবং নির্ভীক, তেজস্বী ও সবল করে তোলে। একজন মনীষী বলেছেন, -“সাহিত্য অমৃত সম, শান্তির উৎস, কল্পফুলের সুধা।” আর মনীষীদের জীবনী পাঠ করে জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, দর্শন প্রভৃতি বিষয়ে জানা যায় এবং অর্জিত জ্ঞান নিজেদের জীবন গঠনে কাজে লাগিয়ে জীবনকে উন্নত করা যায়। ভ্রমণকাহিনীমূলক বই ব্যক্তিকে ইতিহাস বিখ্যাত স্থান সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান দান করে।
এছাড়াও ড্রইং, আবৃত্তি, লেখালিখি প্রভৃতি যার যে বিষয়ে আগ্রহ আছে, সে সেটা করতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই সময়ে আমরা রান্না শিখতে পারি। নতুন কিছু করা বা নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্কের পক্ষে আনন্দের বিষয়। নতুন কিছু শিখলে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, মাংসপেসির মতোই মস্তিষ্কের যত বেশি চর্চা ও ব্যবহার করা হবে, এটি ততোই কর্মক্ষম হয়ে উঠবে। করোনাকালে গদাই লস্করী চলে সময় নষ্ট না করে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন মেধা, প্রতিভা ও দক্ষতা বিকাশ সম্ভব অন্যদিকে সময়টা অনেক সুন্দরভাবে উপভোগ করা সম্ভব।
লেখিকা
উম্মে হাবিবা বিনতে তোসাদ্দেক
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
Design & Developed BY RSK HOST