রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
সলঙ্গার বনবাড়িয়া গ্রামে  কষ্টে জীবন যাপন করছে রুমা খাতুন কালিগঞ্জে খ্যাতনামা লেখকদের অংশগ্রহণে সাহিত্য আড্ডা অক্লান্ত পরিশ্রম সফলতা এনে দিয়েছে জাহাঙ্গীরের সলঙ্গায় সাখাওয়াত এইস মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত। রুমী সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত শাহজাদপুর চরনবীপুরে ভলিবল খেলা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে ১০ শ্রেনীর ছাএীকে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সলঙ্গায় ৫ দিন যাবৎ প্রেমিকের বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকার অনশন ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি পদে মনোনয়ন ফরম কিনলেন আবু সাইদ বিদ্যুৎ চৌহালীতে স্কুল শিক্ষককে হেয়  করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সুশিক্ষিত হলেই স্বশিক্ষিত হওয়া যায় না

 

কিছুদিন আগে পরিচিত এক বড় ভাই বিয়ে করেছেন।উনার স্ত্রী এখনো স্টুডেন্ট। তাই দুজন দুই যায়গায় থাকে। উনার স্ত্রী মেসে থাকুক উনার পরিবার এটা পছন্দ করছেন না,তাই উনি ভাবছেন স্ত্রীর পড়াশোনা বন্ধ করে দিবেন।
আশ্চর্য হলাম..
বিয়ের আগে কিন্তু মেয়ে পক্ষকে কথা দিয়েছিল পড়া সম্পূর্ণ করবে,আর বিয়ের ২মাসের মাথায় তা বেমালুম ভুলে গেল?
জিজ্ঞাসা করলাম ভাই পড়া বন্ধ করতে চান কেন? আর একবছর পড়ে নিলেই তো হয়।
উনি বললেন যে পড়ে কি হবে চাকরি তো আর করবে না!
আমি আরো বেশি অবাক হলাম।
বললাম ভাই চাকরি না করলে ও একজন শিক্ষিত মেয়ে মানে একজন শিক্ষিত মা এটা কি খুব কম হয়ে যায়?
আপনার সন্তাদেরকে পড়ানোর জন্য ও তো আপনি কলেজ/ভার্সিটি পড়ুয়া কোন ছেলে/মেয়ে নিয়োগ দিবেন,সেখানে আপনার স্ত্রী যদি শিক্ষিত হয় তিনি নিজেই নিজের বাচ্চাকে পড়াতে পারবেন।
আর মায়ের চেয়ে উত্তম শিক্ষক আপনি পৃথিবীর কোথায় খুজে পাবেন?
আলহামদুলিল্লাহ উনি বিষয়টা আমলে নিয়েছেন।

কিন্তু এভাবে হাজার হাজার মেধাবী মেয়েরা মাঝপথে তাদের পড়া বন্ধ করে সংসার নিয়ে পড়ে থাকে তার কোন হিসেব নেই। কে বুঝাবে তাদের?

আবার যারা পড়াশুনা কমপ্লিট করে তারা সবাই ভাল চাকরি করতে চায়,তাদের ধারনা শিক্ষিত হলেই চাকরি করতে হবে। না হলে কেন কষ্ট করে পড়লো?
কেন?
শিক্ষিত হয়ে সংসার চালানো যায় না?
এতে কি মানসম্মান শেষ হয়ে যায়?
অনেকেরে বলতে শুনেছি পড়াশুনা করে কিছুই করতে পারলাম না বলে আফসোস করতে।
তাদের জন্য আমার আফসোস হয়।
বলতে ইচ্ছে হয় আপনি শুধু সার্টিফিকেট নিয়েছেন,শিক্ষা নিতে পারেন নি।

সার্টিফিকেট হাতে থাকলেই এখনকার মেয়েরা স্বামীকে আর মূল্যায়ন করে না, ভুলে যায় যে সম্মান পেতে হলে সম্মান আগে দিতে হয়। মূল সমস্যা আমাদের মেয়েদেরই,দু চারটে সার্টিফিকেট নিয়েই এরা নিজেদেরকে পুরুষ ভাবতে শুরু করে।

এখন মেয়েরা ট্রেন্ড করে বিয়ে করে, গায়ে হলুদ করে, নানা রকম বেহায়াপনায় লিপ্ত হয়ে আবার আত্মপক্ষ সাফাই গায় যে “আমরা কে কতটা ইসলাম মানি!!”
নিজের বেহায়াপনা সুন্দর করে সকলের উপর চাপিয়ে দেয়।

সবকিছুতেই যেন এরা ট্রেন্ড খুঁজে।
কে কতটা উলঙ্গ হয়ে শো-অফ করতে পারে তার নেশায় লিপ্ত থাকে, হোক সে উলঙ্গপনা ভিতরের বা বাহিরের।

তারপর যদি তাদের ধর্ষণ হয় তখন ন্যাকামি শুরু করে হিজাব করতো,পর্দা করতো তবুও কেন ধর্ষিত হলো।

ইসলাম পূর্ব আরবে সেই ছোট্র মেয়ে টি যে বলেছিল আমি আর কখনো তোমাকে বাবা বলে ডাকবো না, বিরক্ত করবো না,তোমার চোখের সামনেও আসবো না, তবুও আমাকে বাচতে দাও, তার কথা জানেন তো!

সেই বাবার নাম হযরত দাহিয়াতুল ক্বালবি (রাঃ)।
যিনি পরবর্তীতে রসূল (সাঃ) এর কাছে ইসলাম কবুল করেন। হযরত জিবরাইল (আঃ) মাঝে মাঝে তাঁর ছদ্মবেশ ধরেই রাসূল (সাঃ) এর কাছে ওহী নিয়ে আসতেন।

হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, দাহিয়াতুল ক্বালবি (রাঃ) যখন রসূল (সাঃ) এর সামনে এসে তাঁর ইসলাম পূর্ব জীবনের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটির বর্ণনা করছিলেন, তখন রসূল (সাঃ) এর চোখ থেকে পানি বেয়ে দাড়ি ভিজে ভিজে পড়ছিলো। কাঁদছিলেন মেয়েটির হতভাগ্য বাবা হযরত দাহিয়াতুল ক্বালবি (রাঃ) ও। রসূল (সাঃ) কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, “মানুষ কিভাবে পারে এমন নিষ্ঠুর হতে!”

এটা ছিলো ইসলাম পূর্ব যুগে জাহেলী সমাজ ব্যবস্থার নারী জীবনের ভয়াল চিত্র। ইসলামের আবির্ভাবের পর সমাজকে সেই নিষ্ঠুর অবস্থা থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয় বিশ্ব মানবতার মহান নেতা রাসুল (সাঃ)

প্রাচীন গ্রীসে নারীরা ছিলো আইনগতভাবে সংসারের অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তির মতো। তারা ছিলো পুরুষের দাস।
বাজারে তাদের কেনা বেচা চলতো। সম্পত্তির উত্তরাধিকার ও বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাপারে তাদের পুরুষের অনুগত ও বাধ্য হয়ে থাকতে হতো।

প্রাচীন রোমান আইনে নারীদের বুদ্ধির স্বল্পতাকে দায়ী করে তাদের সব রকম নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
হাম্বুরাবি আইনে নারীর উপর পুরুষের কতৃত্ব মেনে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নারীদের অমূলক ও চরম শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

প্রাচীন হিন্দুমতে, স্বামীর মৃত্যুর পর সতীদাহ প্রথা অনুযায়ী স্ত্রীর বেঁচে থাকার কোনো অধিকারও ছিলো না। ইহুদী সমাজে মেয়েদেরকে দাসীর কাতারে রাখা হতো। পিতা চাইলে তাকে বিক্রি করে দিতে পারতো।

ইসলাম নারীদেরকে সম্মানিত করেছে। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশতের ঘোষণা দিয়েছে। বাবার চেয়েও মায়ের সম্মানের বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। আল্লাহ কোরআনে উল্লেখ করেছেন,
“তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্বব্যবহার করো।” [সূরা নিসা-১৯]

রসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যার তিনটি কন্যা অথবা তিনটি বোন আছে, তাদের সঙ্গে স্নেহপূর্ণ ব্যবহার করলে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।”
[তিরমিযি]

অথচ এখন একদল খুবই সূক্ষ্মরূপে নারীদের মগজে এটা দিয়ে দিয়েছে যে ইসলাম নারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।
ইসলাম নারীকে সম্মানিত করতে চায় আর নারী সে সম্মান কে অধিকার লঙ্ঘনের নাম দেয়।

সর্বোপরি বলতে চাই সকল বাবা কে পদক্ষেপ নিতে হবে মেয়েদের এরকম ঔদ্ধত্য আচরণ রুখে তাদেরকে পুনরায় কোমলতায় ফিরিয়ে আনতে,
আপনার মেয়ে শিশুকে ভালবাসুন, সম্মান করুন।

 

 

ডাঃ আয়েশা সুলতানা
লেখিকা ও চিকিৎসক, নোয়াখালী ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group