শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১১:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
কালিগঞ্জ সীমান্তে অবৈধ ভারতীয় গলদা রেনু সহ ৩ চোরাকারবারি আটক সিরাজগঞ্জে মুজিব ফোর্সের কমিটি গঠন মধুপুরে ধান কর্তন উৎসব এর শুভ উদ্ভোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক এমপি ফেনীতে ১১ বছরের শিশুকে গলাকেটে হত্যা: ১৭ বছরের বালক আটক কালিগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম আজাদ পুলিশ সুপার হলেন ফেনীতে ছেলে করোনা আক্রান্ত শুনে মায়ের মৃত্যু, ১০ দিন পর ছেলেরও মৃত্যু নাগরপুরে দপ্তিয়ার ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ টাঙ্গাইলের মধুপুরে হিজড়াদের মধ্যে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ চৌহালীতে বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ফেনীতে সানরাইজ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া

ফেনীতে লাইভে এসে স্ত্রী হত্যার এক বছর

ফজলুল ক‌রিম হৃদয়, ফেনী প্রতি‌নি‌ধি:

ফেনীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে স্ত্রীকে হত্যা মামলার একবছর পূর্ণ হয়েছে। দেশজুড়ে আলোচিত মামলাটিতে এখন সাক্ষ্য গ্রহন চলছে। ঘটনার পর থেকে কারাগারে রয়েছে একমাত্র আসামী স্বামী টুটুল। এখনো মনে পড়লেই মা-বাবাকে খোঁজে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে ওই দম্পতির ৩০ মাস বয়সী শিশু স্নেহা।

জানা যায়, গত বছরের ১৫ এপ্রিল ফেনী শহরের উত্তর বারাহীপুর ভূঞা বাড়িতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করে টুটুল। পরে তিনি নিজেই ৯৯৯ এ খবর দিয়ে পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টুটুলকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও তার ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত তাহমিনা আক্তারের বাবা সাহাবুদ্দিন গত বছরের ১৬ এপ্রিল ওবায়দুল হক টুটুলকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুদ্দিন ওইদিন টুটুলকে আদালতে হাজির করেন। হত্যার দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুবজোতি পালের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন টুটুল। পরে এসআই সাইফুদ্দিন বদলী হওয়ায় মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই এমরান হোসেন।

ফেনী জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. আলতাফ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এমরান হোসেন গত বছরের ১৬ নভেম্বর ওবায়দুল হক টুটুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করে। আদালত একই বছরের ডিসেম্বর মাসে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি নিহত গৃহবধূর বাবা ও মামলার বাদী সাহাব উদ্দিনের প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত বাদী, ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার ও পুলিশসহ ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। দিনক্ষণ ধায্য থাকার পরও করোনা পরিস্থিতির কারণে নিহত তাহমিনা আক্তারের ছোট বোন ও আসামি টুটুলের দুই চাচাতো ভাইয়ের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।

মামলার বাদী সাহাব উদ্দিন জানান, তার নাতনি স্নেহা দিনভর খেলাধুলায় সময় কাটায়। মাঝে মধ্যেই মা-বাবার কথা মনে পড়লে তাদেরকে ডেকে ডেকে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। তখন তাকে শান্তনা দেয়ার ভাষা আমরা খুঁজে পাইনা।

ফেনী জেলা জর্জ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ জানান, বারাহীপুরে লাইভে এসে গৃহবধু হত্যা মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সাক্ষ্য শেষ হলে যুক্তিতর্ক শেষে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group