শনিবার, ১২ Jun ২০২১, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
কাজিপুরে মৎস্য কর্মকর্তার অভিযানে ২৫ টি চায়না জাল জব্দ আওয়ামী লীগ নেতাকে মারপিট,মনিগ্রাম বাজারে আতংক এখন আফাজ কামারখন্দে কৃষিজমিতে নদীখননের বালি রাখার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে কৃষকদের বিক্ষোভ সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণশুনানী কালিগঞ্জ থানায় কুখ্যাত চোর জালালসহ ওয়ারেন্টভুক্ত ০৪ আসামী গ্রেফতার সিরাজগঞ্জে জেলা পর্যায়ে করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক কার্যক্রম সুসমন্বয়ের লক্ষ্যে-মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নাগরপুরে দূর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী অবহিতকরণ কর্মশালা কালিগঞ্জের হাড়দ্দহা গ্রামে জনকল্যাণার্থে নলকূপ স্থাপন করলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শেখ নাসিরউদ্দীন বিশ্বনাথে সাত বছরের পলাতক আসামি গ্রেফতার ছাতক শহরে গোপাল জিউর মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

রাজারহাটে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

রাজারহাট উপজেলা সদরে চাকিরপশার তালুক গ্রামে একটি অনুমোদনহীন বাড়ি আইন থাকলেও মানছে না কেউ। রাজারহাট উপজেলায় নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে গত এক বছরে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য একজনও আবেদন করেননি। পাকা ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদনের জন্য এ বছর মাত্র সাতটি আবেদন জমা পড়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে।

অথচ প্রতি বছর অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমির ওপর নির্মাণ হচ্ছে শত শত বাড়িঘর। এ অবস্থায় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২ অনুযায়ী যে কোনো ধরনের পাকা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের যাচাই-বাচাই কমিটি থেকে নকশা অনুমোদনের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ফসলি জমিতে বাড়িঘর স্থাপনের ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন নিতে হবে। তবে এসব বিধিবিধানের তোয়াক্কা করছেন না কেউ। গত এক বছরে এই উপজেলায় বহুতল ভবনসহ তিন শতাধিক পাকা ভবন নির্মাণ হলেও নকশা অনুমোদনের আবেদন পড়েছে মাত্র সাতটি। ফসলি জমির ওপর আরও ৩০০ নতুন বাড়িঘর স্থাপনের কাজ চললেও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য কেউ আবেদন করেনি। জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৬৩টি গ্রামে প্রতি বছর ফসলি জমির ওপর শত শত বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে। পাঁচ বছর আগেও গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটের দু’ধারে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছিল শুধু জমি আর জমি। এখন আর তা নেই। এমনকি বিল, জলাশয় ও প্লাবন ভূমি পর্যন্ত ভরাট করে নির্মাণ হচ্ছে বাড়িঘর। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল হরিশ্বর তালুক মৌজার দেউলার বিলে ২৫ বছর আগে পাঁচ শতাধিক একর আবাদি জমি ছিল। কৃষকরা সেখানে ধান, পাটসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করতেন। বর্ষাকালে পানি আর শুকনা মৌসুমে জমির আইল ছাড়া ভর দুপুরে রোদে ছায়ায় জুড়ানোর মতো কোনো গাছও ছিল না। তবে এখন ভিন্ন চিত্র। দেখে বোঝার উপায় নেই এই দেউলার বিলটি এক সময় শুধুই ফসলের মাঠ ছিল। ২৫ বছরের মধ্যে সেখানে দুই সহস্রাধিক পরিবার ঘরবাড়ি নির্মাণ করে মানুষ বসবাস করছে। মানুষের যাতায়াতের জন্য তৈরি হয়েছে একাধিক কাঁচা-পাকা সড়ক ও বাড়ি সংলগ্ন পুকুর। প্রতি বছর তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ঘরবাড়ি। এমনিভাবে উপজেলার চাকিরপশার বিল, ইটাকুড়ির দোলা, ঘড়িয়ালডাঙ্গা বিল, জুগিদাহ বিল, উকিলের ছড়া, খাউরিয়ার দোলা, বেদারজাল, জোকমারীর দোলাসহ ছোট-বড় ৩০টি বিল, জলাশয় ও প্লাবনভূমিতে বর্ষাকালে মাছ ও শুস্ক মৌসুমে ধান চাষাবাদ হতো। এখন এগুলো সংকোচিত হয়েছে। চারধার ভরাট করে মানুষ গড়ে তুলেছে বসতবাড়ি, দোকানপাট ও হাটবাজার। উপজেলা সদর থেকে সাতটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম্য রাস্তার ধারে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বাড়িঘর। অনেক স্থানে চলছে নতুন আবাস স্থাপন বা নির্মাণের কাজ। এমনকি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজও চলছে। উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, রাজারহাট উপজেলায় মোট পরিবারের হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। তবে ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪৬ হাজার ৪৮৯টি পরিবারের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী ২০০১ সালে রাজারহাট উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৯ জন এবং ২০১১ সালে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৮১ জনে। ইউএনও নুরে তাসনিম বলেন, অপরিকল্পিতভাবে কেউ যাতে বাড়ি নির্মাণ না করে সে বিষয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ক্যাম্পেইন করার জন্য প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পরও অনুমোদন ছাড়া বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ বছর নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন-সংক্রান্ত সাতটি আবেদন পেলেও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group