শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন

 তিস্তার ভাঙনে বসত ভিটা হাড়িয়ে দিশেহারা ঘড়িয়ালডাংগাবাসি

মোঃ রেজাউল হক কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাংগা ইউপি ৮নং ও ৯ নং ওয়ার্ডের খিতাবখা গ্রাম সহ বিদ্যানন্দ ইউপির ১ নং রামহরি গ্রামে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে এলাকা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হবে না। চোখের সামনে কৃষকের একমাত্র সম্বল বসত ভিটা ঘড় বাড়ি এবং আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আর তা চেয়ে চেয়ে দেখতে হচ্ছে অসহায় কৃষকদের। ঘড়িয়ালডাংগা ইউপি ও বিদ্যানন্দ ইউপির এমন দৃশ্য এখন নৈমিত্তিক ঘটনা। তিস্তা নদীর ভাঙনে এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬ টি পরিবারের বসত ভিটা সহ বাড়িঘর, মসজিদ, বিদ্যালয়, বুড়ির হাট সহ বিস্তীর্ণ জনপদ হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ দেখার কেউ যেন নেই। এ জনপদকে রক্ষার ব্যাপারে নেই কারো কোনো উদ্যোগ। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনাশা তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদী পারের ১৬ টি ঘরবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। মাথা গুজার ঠাই হারিয়ে এসব লোকজন অনত্র বসবাস করছেন। নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও ভাঙ্গন রোধে কোন উদ্যোগ নেই জন প্রতিনিধি এবং খোঁজ নিতেও আসেনি কেউ। সরেজমিনে ঘড়িয়ালডাংগা ইউপির গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিনিয়ত এই এলাকার মানুষের ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলিন হচ্ছে। এ নিয়ে অতীতে সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। খোজঁ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ঘড়িয়ালডাংগা ইউপির ৮নং ও ৯নং ওয়ার্ডের খিতাবখা গ্রামের ১। আব্দুস সালাম পিতা মৃত তেরছ মামুদ,২। এরশাদ আলী পিতা আব্দুস সালাম, ৩। শাহিদুল ইসলাম পিতা আব্দুস সাত্তার, ৪। আশারাফু আলম পিতা আব্দুল ছাত্তার, ৫।আতিকুল ইসলাম পিতা আব্দুর ছাত্তার, ৬।রেজাউল ইসলাম, পিতা আব্দুল করিম, ৭।সাদেকুল ইসলাম পিতা আব্দুল সামাদ, ৮।রবিউল ইসলাম পিতা মজিবর রহমান, ৯। বছর মন্ডল পিতা আহসান মন্ডল, ১০। রফিকুল ইসলাম পিতা আবুল হোসেন ১১। আবুল হোসেন পিতা মৃত সোবান আলি ১২। হানিফ আলি পিতা মৃত বানু মামুদ ১৩। নুন্নাহার স্বামী আছর উদ্দিন ১৪। আজব আলি পিতা মৃত্যু পয়ার উদ্দিন ১৫। আব্দুল ছাত্তার পিতা তছর মামুদ এবং বিদ্যানন্দ ইউপির রামহরি গ্রামের ১৬। আতিয়ার রহমানের বসত ভিটা বাড়ি সহ তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বসত বাড়ি রয়েছে হুমকির মুখে। একের পর নদী পাড়ের ঘরবাড়ী, মসজিদ,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বুড়ির হাট সহ অনেক স্থাপনা ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। খিতাবখা গ্রামের আব্দুর সালাম জানান, একের পর তিস্তা নদীর ভঙনে এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬ টি বসত ভিটা সহ ঘরবাড়ী এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় বসবাস করছে। আরো বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে জনপ্রতিনিধিদের বারবার অবগত করলেও কেউ কোন খোঁজ নিতেও আসেনি। বিদ্যানন্দ ইউপির সদস্য রামহরি গ্রামে আব্দুর মজিদ মিয়া জানান, নদী ধীরে ধীরে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন খেয়ে ফেলছে। এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ইউনিয়নের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সেই কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে, এসব এলাকার নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে ব্লক স্থাপন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group