শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন

তরুন থেকে নেতা হয়ে উঠার গল্পঃ সাবেক মেয়র আক্কাস আলীর ( প্রথম পর্ব )

আবুল হাশেম, রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার এক মুজিব আদর্শের বীর সৈনিকের নাম আক্কাস আলী। ১৯৬৮ সালে বাঘা উপজেলার কলিগ্রাম গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। মরহুম চৈতী মন্ডলের চতুর্থ ছেলে তিনি। ছোট কাল থেকেই কঠিন সাহস আর সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার বা পাশে দাড়ানোর ইচ্ছে লক্ষ্য করে ছিলেন প্রবীণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গ, আক্কাস আলীর আচরনের ভেতরে। প্রাইমারী পাশ করে তখন হাইস্কুলে সময়টা ১৯৮২ সাল , শুরু হয় রাজনৈতিক পথচলা। মুখে তখন “জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান।

প্রতিনিয়ত উপস্থিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে লম্বা চড়া শারিরীক গঠনের সাহসী তরুণ আক্কাস আলী । সেই সাথে সিংহের মতো গোজরে উঠা “জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান। অল্পতেই নেতা কর্মীদের সু-দৃষ্টিতে পরে জান তিনি। ততকালীন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা আক্কাস আলীর উদারতা,সততা,কর্মতৎপরতা, ও সাংগঠনিক দক্ষতা দেখে বুঝে গিয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত উজ্জ্বল নক্ষত্র এই তরুণ । বাঘা শাহ্দৌলা ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ১৯৮৬ সালে প্রথম দলিয় পদ পদবিতে আসেন তিনি । নেতা কর্মীদের সহযোগিতা, পরিশ্রম আর ভালোবাসাই ১৯৯০ সালে নির্বাচিত হন বাঘা শাহ্দৌলা ডিগ্রী কলেজের ভিপি। গোটা উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাতে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে তার।

মাত্র ২৩ বছর বয়সে ১৯৯১ সালের পাকুড়িয়া ইউনিয়ন নির্বাচনে কুলা মার্কা নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আক্কাস আলী। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ এক বিজয় অর্জন করে। অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে উঠেন পাকুড়িয়া ইউনিয়নবাসীর সুখে দুঃখের সাথী, একান্ত আপনজন। দ্বিতীয় বার আবারো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এরপর উপজেলা আওয়ামীলীগ , যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের দোয়া, ভালোবাসা ও প্রচেষ্টায় ১৯৯৬ সালে ভোটের মধ্যেদিয়ে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১

৯৯৯ সালে বাঘা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হবার পর ২০০১ সালের প্রথম নির্বাচনে দলিয় কোন্দল আর কাল্পনিক ভাবে পরাজিত হলেও (বেসরকারি ভাবে বিজয়ী ঘোষণার পর, সরকারি ভাবে পরাজিত) , ২০০৬ সালে দ্বিতীয় বারে বিপুল ভোটে ছাতা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন আক্কাস আলী। ন্যয় নিষ্ঠার সাথে পৌরবাসীর সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দির্ঘ্য ১২ বছর ( আইনি জটিলতায়)। প্রথম শ্রেণির পৌরসভাতে রুপান্তর করা সহ অসংখ্য উন্নয়ন মুলক কাজ করেন বাঘা পৌরসভায়।

৩৯ বছরের বনাট্য রাজনৈতিক জীবন তার, কিন্তু এই সময়ের অধিকাংশ সময়টা কেটেছে তার নানা চড়ায় উত্তরায়ের মধ্যে দিয়ে। জনগণের অধিকার আদায়, রাজনৈতিক প্রতি হিংসা সহ জামাত, বি এন পির ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে প্রায় ১৫ বার। স্বৈরাশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বাঘা উপজেলায় তার ভূমিকা ছিল অন্যতম, ১৯৮৭ সালে প্রথম ১৪ মাস হাজবাস করেন তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্লিন হাট অপারেশনও দির্ঘ্য সময় জেল হাজতে থাকতে হয়েছে তাকে। আক্কাস আলী তার রাজনৈতিক জীবন দশায় ৫৫-৬০ টি মামলার আসামি হয়েছেন। যার প্রতিটিই মিথ্যা, হয়রানি মূলক রাজনৈতিক মামলা। সবমিলিয়ে ১০০০ দিনের অধিক সময় কারাবাস করতে হয়েছে তাকে। তৎকালীন সময়ের সরকারী পুলিশ বাহিনী সহ পরবর্তীতে বিরোধি দল জামাত, বি এন পির ক্যাডার বাহিনীর আক্রোশের মুখেও পড়েন বারংবার । তবুও কোন কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি, জনসাধারণের পাশে দাড়ানো থেকে।

উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম শালিশ বৈঠকে তার কথায় শেষ কথা। একজন নেতা এমনি এমনি হয় না। একজন রাজনৈতিক নেতা তৈরীকরতে অনেক মানুষের মেধা, শ্রম, অর্থিক বিষয় সহ নানা সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। সেই সাথে যিনি নেতা হন তারও উদারতা , সততা , কর্মতৎপরতা সহ সাংগঠনিক দক্ষতার প্রয়োজন হয়। সব মিলে অনেক কষ্টের ফসল হিসেবে তৈরী হয় একজন নেতা।

বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে…..

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group