শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন

ঈদের আনন্দ নেই ভাঙ্গন কবলিত চৌহালী বাসির মনে

চৌহালী প্রতিনিধিঃ

দেশের অবহেলিত একটি উপজেলা সিরাজগঞ্জের চৌহালী যার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে দেশের বড় ও খরস্রতা নদী গুলোর একটি যমুনা ৷ আর পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে গেছে ধলেশরী নদী ৷ উপজেলাটি সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে অবস্থিত হলেও জেলা শহর থেকে বিছিন্ন দ্বীপ এটি। জেলা শহর সহ কয়েকটি উপজেলা নদী ভাঙন প্রবণ তবে চৌহালী ছাড়া বাকি উপজেলা গুলো স্থায়ী বেড়িবাঁধের আওতায় এসেছে বা আসছে ৷ খরস্রতা রাক্ষসী যমুনার থাবায় চোখের সামনে নিজের ঘর-বাড়ি, জমি-জমা যমুনার পানিতে ভাঁসতে দেখেছে আর নিজের চোখের জলে বুক ভাসিয়ে পথে বসছে অসহায় মানুষ গুলি ৷ তাদের সামনে কত ঈদ নামক আনন্দ এসেছে আর চলে গেছে বুঝার উপায় নেই ৷ মনেএকটিই চিন্তা আর স্বপ্ন কোথায় বা কার জমিতে স্বপ্নের নীড় বাঁধবো। কারো জমি না পেয়ে কবরস্থান ও সরকারি সড়কের ধারে কুঁড়ে ঘর বেঁধে তাতেই বসবাস করছেন সর্বোস্ব হারা মানুষ গুলো ৷ আর কয়েক কিলোমিটার ভাংলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে স্বপ্নের চৌহালী।

করোনায় বিপর্যস্ত হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ,
নিম্নআয়ের মানুষ গুলো অসহায় আর কর্মহীন হয়ে পড়েছে ৷ এদিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা যেখানে দরিদ্রদের বসবাস বেশি, এরই মাঝে শুরু হয়েছে বর্ষা এবং নদী ভাঙ্গন ৷ এ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপরই নির্ভরশীল অনেকেই কোরবানির জন্য গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন কেউবা আবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করেন ৷ চলমান বর্ষার শুরু থেকেই ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ৷ ৩ কিলোমিটার ভাঙ্গন এলাকায়, ভাঙন রোধে মাত্র ৩ শ’ত মিটার যায়গায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে তাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না ৷ ২০ জুলাই মঙ্গলবার
ঈদকে সামনে রেখে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় অনেকেই বসবাস করছেন খোলা আকাশের নিচে কেউবা পলিথিন কাগজ টানিয়ে ৷ করোনা থাবায় আর নদী ভাঙ্গনের কারণে চৌহালীতে অনেকটাই ঈদ আনন্দ হারিয়ে গেছে মানুষের মন থেকে ।

বিনানই গ্রামের দীন মোহাম্মদ বলেন, যমুনা গাঙ্গে আমাগেরে জমি-জমা সব ভাইঙ্গা গেছে , সব হারাইয়া আমরা এহন পথে বসেছি ৷ কোনহানে জমি পামু কে দিবো কিছুই জানা নাই।

চরসলিমাবাদ গ্রামের মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের সব শেষ, আগুনে পুড়লে তাও ভিটে-মাটি থাকে নদীতে ভাঙ্গলে জিনিস-পত্র কেউ কেউ সরাতে পারলেও অনেকের ঘর-বাড়িসহ আসবাবপত্র নদীতে চলে যায় ৷ এই অবহেলিত উপজেলার অবহেলিত মানুষ গুলোকে দেখার যেন কেউ নেই।
কথা হয় সদ্য নদীতে ভিটেমাটি হারা বিনানই গ্রামের মোছাঃ কমেলা খাতুন (৬৫) এর সাথে,
তিনি বলেন নদীতে বাড়ি ভেঙে যাওয়ার পর কথায়ও যায়গা না পেয়ে ৩ দিন রাস্তার পাশে খড়ের পালা নিচে বসবাস করেছি, অবশেষে কবরস্থানে থাকার জায়গা পেয়েছি।
কাল ঈদ সেমাই কিনছেন কিনা জানতে চাইলে ছল ছল করে কেঁদে দিয়ে বলেন বাবারে ভাতের চাল অন্যের বাড়ি থেকে চেয়ে খাচ্ছি। ঈদের সেমাই সে তো অনেক বড় চাওয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group