শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
চলতি মাসেই চালু হবে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন-রেলমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ের সেমিনার অনুষ্ঠিত বিশ্বনাথে ‘স্বপ্ন’র যাত্রা শুরু সলঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারীর মৃত্যু আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দল -কৃষিমন্ত্রী বিশ্বনাথে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুহেল গ্রেফতার বেলকুচিতে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ কাজিপুরে বন্যায় রোপা আমন ধান তলিয়ে জাওয়ায় ১৩ হাজার ৩৭১ কৃষের কপালে ভাজ বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত – ১ উল্লাপাড়ায় ট্রাকচাপায় কলেজ ছাত্রসহ নিহত ২

রহস্যময় আমাজনে এক মানবের নিঃসঙ্গতার গল্প

ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠা গভীর রেইনফরেস্ট আমাজন। বৃহত্তম এ অরণ্য পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই আমাজনকে পৃথিবীর ফুসফুসে বলা হয়। এ রেইনফরেস্টকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য। গুপ্তধন বা মূল্যবান ধনের লোভে মাইলের পর মাইল গভীর অরণ্যটি পুড়াচ্ছে সভ্য সমাজে থাকা লোভী মানুষ। এতে বিলুপ্ত হচ্ছে সেখানে থাকা উপজাতিরা। এবার সেই অরণ্যের কেন্দ্রে সন্ধান মিলল বিলুপ্তপ্রায় এক নিংসঙ্গ মানবের। এক সময় যার স্ত্রী, সন্তান, পরিবার ও গোষ্ঠী ছিল। এখন তার কেউ নেই। একাকিত্ব জীবন কাটছে তার।

আমাজনের আদিম মানুষদের নিয়ে গবেষণা করা ব্রাজিলের একটি সরকারি সংস্থা ‘ফুনাই’। ১৯৯৬ সালে ব্রাজিলের রোন্দোনিয়া প্রদেশের জঙ্গলে ওই মানবকে প্রথম দেখতে পেয়েছিলেন সংস্থার গবেষকেরা। তবে এক দশকের বেশি সময় ধরে তাকে আর দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে তাকে দেখা গেছে।

গবেষকদের ভাষ্য, ৫০ বছরের কাছাকাছি বয়সের উপজাতি মানব জঙ্গলে ২৫ বছর ধরে একাই বসবাস করছেন। তাকে কখনো জঙ্গলের বাইরে আসতে দেখা যায়নি। অনেকে তার ছবি তুলতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। তবে জঙ্গলে রেখে আসা ক্যামেরার ভিডিওতে ওই মানবকে দেখা গেছে।

যেভাবে একা হলেন এ উপজাতি মানব

বিংশ-শতাব্দীর শেষ ভাগে আমাজনের গভীরে বাস করা প্রায় ১১৩ টি আদিম উপজাতির ওপর চরম থাবা বসায় সভ্য সমাজে থাকা লোভী মানুষ। জঙ্গলের ভেতরে থাকা মূল্যবান সম্পদ আহরণ করতে বার বার উপজাতিদের ওপর হামলা চালানো হয়। নির্বিচারে হত্যা করা হয় উপজাতি জনগোষ্ঠী মানুষদের। অনেকে পালিয়ে গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নেন। সেখানে হিংস্র বন্যপ্রাণী ও সাপের সঙ্গে লড়াই করে অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছে তারা।

গবেষকদের ভাষ্য, আমাজনের বুকে হাজার হাজার বছর ধরে বাস করা এক আদিম উপজাতির শেষ প্রতিনিধি এ মানব। ২৫ বছর ধরে ভয়ংকর আমাজন অরণ্যে একা মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ১৯৯৫ সালে তার সঙ্গে আরো পাঁচজন জীবিত ছিলেন। তখন আধুনিক দুর্বৃত্তদের হামলায় তারা মারা যান।

যেমন যাচ্ছে একাকি এ মানবের সময়

ফুনাই সংস্থাটি ২০১৯ সালে ওই মানবকে দেখার পর তার গতিবিধি নজরে রেখেছে। তাকে একটি ছোট ঘাসের কুঁড়ে ঘরে বসবাস করতে দেখা গেছে। ঘরটির চারদিকে ভুট্টা ও পেঁপের চাষ করেছেন তিনি। একটি পশুর ছাল দিয়ে পোশাকের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। তার কুঁড়ে ঘরের সামনে আদিম যন্ত্রপাতি দেখতে পেয়েছেন সংস্থাটির কর্মীরা। এসব যন্ত্র সাধারণত সুড়ঙ্গ খোঁড়া, শিকার করা, মাছ ধরায় ব্যবহার হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০ হাজার বছর আগে পূর্বপুরুষদের মতোই ২০২০ সালে একইভাবে জীবনযাপন করছে এ মানব। সুড়ঙ্গ-মানব ভয়ংকর অ্যানাকোন্ডাকেও ভয় পায় না। তবে যত ভয় সভ্য জগতের মানুষদের প্রতি। কারণ তাদের হাতেই তার বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী এমনকী দুধের শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। সভ্য সমাজের লোভী মানুষের প্রতি এক বুক হতাশা আর অভিমান নিয়ে বংশের শেষ মানব হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে চিরতরে।

সূত্র- বিবিসি

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group