বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
সখিনা মােতাহার কল্যাণ ট্রাস্ট এর উদ্যোগে অটোভ্যান ও সেলাই মেশিন বিতরণ কাজিপুর পৌর মেয়রের মতবিনিময় সভা উল্লাপাড়ায় দুই মাদক সেবনকারীর  ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড জনস্বার্থে কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলায় প্রায় শত বছরের সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত চৌহালীতে ড্রেজার পুরিয়ে ধ্বংস করলেন ইউএনও কেন্দ্রীয় মটর চালক লীগের সদস্য কালিগঞ্জের শেখ আব্দুস সাদিক দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে কাজিপুরে ছাত্রলীগ নেতা বহিঃষ্কা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিরাজগঞ্জ ইউনিটের বার্ষিক সাাধারণসভা অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী পৌর নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল মধুপুরে যুবতীকে ধর্ষণ থানায় মামলা করায় বাদীকে হুমকী

যমুনার করালগ্রাসে বিলীন হওয়ার পথে চৌহালী

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যমুনা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। যমুনা নদী প্রতিদিন গিলছে ফসলী জমি ও বসতভিটা। আর নিঃস্ব হয়ে পড়ছে মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সরেজমিন পরিদর্শন করে সামান্য কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও স্থায়ী ভাবে নিচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, বর্ষার আগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অসংখ্য স্থাপনা, ঘরবাড়ী, ফসলী জমি, তাঁত কারখানা, মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও হাট-বাজার বিলীন হবার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙ্গনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ মতাবস্থায় দ্রুত ভাঙ্গনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ভাঙ্গনকবলিতরা।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুমের আগে বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। এ কারণে অরক্ষিত নদীর তীরে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। মাত্র একমাসের ব্যবধানে কয়েক হাজার বসতভিটা-ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা চৌহালী উপজেলা সদরের জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে খাস পুকুরিয়া হয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরবিনানুই-ভুতের মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ খাষ পুকুরিয়া, মিটুয়ানী, রেহাই পুকুরিয়া ও চরবিনানুই এলাকার প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি, সাতটি তাঁত কারখানা, তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়াও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পড়ছে।
চৌহালী উপজেলার খাষপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার জানান, যমুনার ভাঙ্গনে তার ইউনিয়নের খাষপুকুরিয়া ও মিটুয়ানি গ্রামের তীরবর্তী এলাকার অন্তত ২০/২৫টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে এ অঞ্চলের মানুষের। বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী জানান, গত এক মাসের ব্যবধানে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাইপুকুরিয়া, চর নাকালিয়া, বিনানুই ও চর সলিমাবাদ গ্রামের তীরবর্তী অঞ্চলের শতাধিক ঘরবাড়ি এবং মিটুয়ানি ও দেওয়ানগঞ্জ বাজারসহ তাঁতকারখানা এবং তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

অন্যদিকে যমুনার পশ্চিম পাড়ের অংশের এনায়েতপুর ব্রাহ্মন গ্রাম থেকে পাঁচিল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার চরাঞ্চলের ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এনায়েতপুরের এরশাদ আলী ও জাহান আলীসহ কয়েকটি গ্রামের ভাঙ্গনকবলিতরা জানান, মাত্র একমাসের ব্যবধানে ব্রাহ্মনগাতি-আড়কান্দি থেকে পাঁচিল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙ্গনে প্রায় এক হাজার বসতবাড়ী, শত শত হেক্টর জমি, খেলার মাঠ, মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ বিলীন হয়ে গেছে। বাপ দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে সবাই খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। এক সময়ের বিত্তবান মানুষগুলো নদীভাঙ্গনে সব হারিয়ে মুহুর্তে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ঘর তোলার জায়গা নেই, করোনার কারণে কাজ না থাকায় এসব মানুষ অনাহারে দিনযাপন করছে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের ভাষ্যমতে, পাউবো শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ভাঙ্গনে যারা নিঃস্ব হয়েছে তাদেরকে পুনর্বাসনের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চৌহালী উপজেলা অংশের দায়িত্ব থাকা টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই এলাকায় স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, এনায়েতপুরের ছয় কিলোমিটার এলাকার ভাঙ্গনরোধে সাড়ে ৬শ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে স্থায়ী ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া জরুরীভাবে ভাঙ্গনরোধে কিছু জিওব্যাগ ফেলানো হবে বলেও তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group