শনিবার, ১২ Jun ২০২১, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
কালিগঞ্জে হারুন এগ্রিকালচার ফার্ম পুকুরে বিষ প্রয়োগ, ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি সলঙ্গার রামকৃষ্ণপুরে ডিজিটাল কায়দায় বয়স্ক ভাতার টাকা চুরি কাজিপুরে মৎস্য কর্মকর্তার অভিযানে ২৫ টি চায়না জাল জব্দ আওয়ামী লীগ নেতাকে মারপিট,মনিগ্রাম বাজারে আতংক এখন আফাজ কামারখন্দে কৃষিজমিতে নদীখননের বালি রাখার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে কৃষকদের বিক্ষোভ সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণশুনানী কালিগঞ্জ থানায় কুখ্যাত চোর জালালসহ ওয়ারেন্টভুক্ত ০৪ আসামী গ্রেফতার সিরাজগঞ্জে জেলা পর্যায়ে করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক কার্যক্রম সুসমন্বয়ের লক্ষ্যে-মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নাগরপুরে দূর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী অবহিতকরণ কর্মশালা কালিগঞ্জের হাড়দ্দহা গ্রামে জনকল্যাণার্থে নলকূপ স্থাপন করলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শেখ নাসিরউদ্দীন

আত্মহত্যার ভয়াবহতা ও করণীয়

 

আত্মহত্যা বা আত্মহনন হচ্ছে কোন ব্যক্তির দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ। ব্যক্তি যখন জীবনে চরম হতাশায় ভোগে এবং সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা কমে যায় তখন সাধারণত আত্মহত্যা করে।

 

 

কিন্তু আত্মহহত্যা কি কোন সমাধান? সে কি জীবনের কাছে হেরে গেল না?
একজন আত্মঘাতক শুধু নিজের অস্তিত্ব নি:শেষ করে ফেলে না, তার পরিবারের জীবনে অপূরণীয় গভীর ক্ষত ফেলে যায়।শুধু কি তাই, এটি যে অন্য কাউকে অনুসরণে প্রভাবিত করবে না, তার কি নিশ্চয়তা।

 

 

 

বিশ্বে নারীদের তুলনায় পুরুষদের আত্মহহত্যার হার বেশি হলেও, বাংলাদেশে এ চিত্র বিপরীত। বিবিসি নিউজে প্রকাশিত ন্যানসেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে আত্মহহত্যার প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি।

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে আট লাক্ষের বেশি মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।অর্থাৎ প্রতি ৪০ সেকেন্ডে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও একজন মানুষ আত্মহহত্যা করে।এবং অগণিত মানুষ আত্মহহত্যা করার চেষ্টা করে।পৃথিবীতে যত মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করে,তার মধ্যে ২.০৬ শতাংশ বাংলাদেশী।বাংলাদেশে প্রতিবছর লাখে ১২৮.০৮ জন মানুষ এবং প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে,আর এই আত্মহত্যার হার শহরের চেয়ে গ্রামে ১৭ গুণ বেশি।

 

 

 

আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় কারণ ডিপ্রেশন।দেশে আত্মহত্যার জন্য বিভিন্ন কারণ যেমন: যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, দাম্পত্য কলহ, মাদকাসক্তি,ইভটিজিং,পারিবারিক জটিলতা, প্রেম ও পরীক্ষায় ব্যর্থতা,অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদি কারণ দায়ী।

 

 

 

বাংলাদেশে পরিচালিত এক গবেষণায়, পারিবারিক সমস্যা (৪১.২%),পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া (১১.৮%),ভালবাসায় কষ্ট পাওয়া (১১.৮%),স্বামীর অত্যাচার(৫.৯%) এবং অর্থকষ্ট (৫.৯%)থেকে রেহাই পেতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

এ সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই সমাধানের চেষ্টা করা জরুরী। এজন্য বিভিন্ন দিকে দৃষ্টিনিবন্ধ করা যেতে পারে।যেমন:

– ভালো পারিবারিক গুরুত্বপূণ ভূমিকা রাখে।পরিবারের সদস্যদের উচিত পরস্পরকে বুঝার চেষ্টা করা।

 

 

 

– ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চচা আত্মহত্যার ঝুঁকি কমায়।সাধারণত আামাদের ধর্মিয় দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যাকে মহাপাপ হিসেবে ধরা হয়।এছাড়া নৈতিক মূল্যবোধের চাচ মানুষকে এ পথ থেকে বিরত রাখতে পারে।

 

 

 

– কেউ হতাশাগ্রস্ত হলে বা সমস্যার কথা বললে,তার সমস্যা অনুধাবণ করা এবং সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা জরুরি।যখন একজন মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয় তখন সে চরম একাকিত্ব অনুভব করে।তাই অন্যরা তার সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে তার পাশে থাকলে সমাধান হতে পারে।

 

 

 

 

– কেউ ডিপ্রেশন বা হতাশাগ্রস্ত হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হতে হবে।

সবো পরি এ সমস্যা সমাধানে সকলকে সচেতন হতে হবে।আত্মহত্যা যে কোন সমাধান নয় এটি বুঝতে হবে এবং এক অমূল্য জীবনকে ভালোবাসতে হবে।

 

 

 

 

লেখিকা
সায়মা আলম
শিক্ষাথী,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group