শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
দেশে ও প্রবাসের সকলকে বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন প্রধান টাঙ্গাইল জেলা জাপা আবার চাঙ্গা: এনাম জয়নাল সিরাজগঞ্জ জেলা তায়কোয়ানডো ক্লাবের ২য় শাখার উদ্বোধন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রত্যাশিত সিরাজগঞ্জ”এর ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত কাজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার সাত মনোনয়ন প্রত‍্যাশীর নাম কেন্দ্রে পাঠান হলো ৭১’র চেতনা মধুপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করলেন মোহাম্মদ নাসিম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় মানিকগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় নাগরপুরের একই পরিবারের ৫জন সহ নিহত ৭ কালিগঞ্জে গরিব, দুঃখী, অসহায় শীতার্ত বস্ত্রহীন মানুষের পাশে মানবতার দেয়াল ভোটারের মন জয় করতে যাদু

অসহায়ের কান্না কি শুনতে পান?

এনায়েতপুর থানা সদর থেকে দক্ষিনে সাড়ে ৬ কি.মি. জুড়ে প্রতিদিনই নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসত ভিটা ও ফসলি জমি। প্রতিদিনই বহু স্বপ্ন ভঙ্গের খবর পাওয়া যায়। এ কারনে ভোরের সূর্য্য উঠতে না উঠতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়, আজ আবার কার ভিটাবাড়ি যমুনার পেটে যাচ্ছে। এ খবর এখন অনেক পুরনো। হয়তো উপরতলার কর্তারা এ করুন দশার কথা গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুনতে শুনতে কান ঝাঁলাপাঁলা হয়ে যাচ্ছে। এখন এসব নিয়ে লেখা বা ছবি দেখলে এড়িয়েও যেতে পারেন কেউ কেউ।

তবে অসহায়ের শেষ সম্বল বাড়ির ভিটা মাটি আর সম্পদ হাড়ানো লোকদের কান্না কিন্তু বাতাসে ভাসছে। জানি এ কান্নার কোন মুল্য আপনাদের কাছে নেই। কারন প্রতিনিয়তই এ ভাঙ্গা গড়ার খেলা দেখেই আসছেন। দায়িত্বের কারনে অনেক কর্তারই আবেগ কমে যায়। তবে আমাদের মত দুর্বল ও সরলমনা মানুষদের কান্নাই ভরসা, এ ছাড়া কোন উপায় বা শক্তি নেই। কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষনে নানা কর্মসূচি দিয়ে সব রকমের চেষ্টা করেছি, তারপরও কাজ হচ্ছে না।

যমুনা পাড়ে তো আর কর্তা কিংবা ক্ষমতাবানদের বাড়ি নেই। থাকলে হয়তো চোখের সামনে শত শত বসত ভিটা নদীতে চলে যেত না। নিজ চোখে না দেখলে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারবেন না শত স্বপ্নের বাড়ি ঘর গুলো মুর্হুতেই নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। আমরা সীমান্ত এলাকায় বসবাস করি একারনে হয়তো মুল্য নেই। বছরের পর বছর স্থায়ী বাঁধের আশায় চোখের সামনে ঘরবাড়ি হাড়াতে হতো না। এখন ক্ষতিগ্রস্থদের প্রশ্ন- আরও কত অপেক্ষার পর বাঁধ হবে ? তখন যদি এলাকায় বসত ভিটা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট-হাটবাজারই না থাকে বাঁধ দিয়ে কি লাভ।

ভাঙন এলাকা শাহজাদপুর উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন খুকনী ও জালালপুরের মানুষ ভাঙন আতঙ্ক নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। এখন আর ডাকাতের ভয়ে নয়, যমুনার গর্জনে সব তছনছ হয়ে যাচ্ছে। ডাকাত আসলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রুখতে পারা যায়, কিন্তু যমুনার আগ্রাসী থাবা ঠেকাবে কে? নদীতো একে একে গিলে খাচ্ছে হাজার হাজার সাঁজানো সুখের সংসার। একারনে খেলা আকাশের নিচে এক সময়ের অনেক সমৃদ্ধশালী পরিবার এখন সদস্যদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

আমার লেখা এসব কষ্টের কথা গুলো এই ভাঙন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন এবং জেলার কৃতি সন্তান পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার মহাদয় বরাবর পৌবে কিনা জানি না। তারপরও তাকেই বলতে চাই, প্লিজ আমাদের এলাকা রক্ষায়, আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মনগ্রাম-আড়কান্দি, ঘাটাবড়ি, পাকুরতলা ও পাঁচিল এলাকার অবশিষ্ট অংশে দ্রুত স্থায়ী বাঁধের কাজ করে দিন। মহান আল্লাহুর রহমতে আপনারাই পারেন এই জনপদকে রক্ষা করতে। আপনাদের অবদান সারা জীবন মনে রাখবে ভাঙন এলাকার সরলপ্রাণ মানুষ।

 

 

 

রফিক মোল্লা
সাধারন সম্পাদক,
এনায়েতপুর প্রেসক্লাব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group