শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
নাগরপুরে অবৈধ ট্রলি গাড়ির সাথে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১,আহত ৫ দেশে ও প্রবাসের সকলকে বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন প্রধান টাঙ্গাইল জেলা জাপা আবার চাঙ্গা: এনাম জয়নাল সিরাজগঞ্জ জেলা তায়কোয়ানডো ক্লাবের ২য় শাখার উদ্বোধন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রত্যাশিত সিরাজগঞ্জ”এর ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত কাজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার সাত মনোনয়ন প্রত‍্যাশীর নাম কেন্দ্রে পাঠান হলো ৭১’র চেতনা মধুপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করলেন মোহাম্মদ নাসিম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় মানিকগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় নাগরপুরের একই পরিবারের ৫জন সহ নিহত ৭ কালিগঞ্জে গরিব, দুঃখী, অসহায় শীতার্ত বস্ত্রহীন মানুষের পাশে মানবতার দেয়াল

কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিলের টাকার সিংহভাগ নয়ছয় হওয়ার অভিযোগ

ফজলুল হক মনোয়ার, কাজিপুর, প্রতিনিধি:

 

 

 

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিলের টাকার সিংহভাগই নয়ছয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবদ গৃহীত টাকার সঠিক অংক রেজিষ্টারে যথাযথ ভাবে না তুলে কম টাকা  তোলার, কোন কোন ক্ষেত্রে একেবারেই তোলা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে      জানা যায়, পেটের সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  আসেন উপজেলা সদরের আসাদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে রক্তের দুটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ  মোতাবেক ১৪০ টাকা ফি জমা দিয়ে রক্তের নমুনা পরীক্ষা করান। কিন্তু  পরীক্ষার ফি বাবদ  তিনি ১৪০ টাকা জমা দিলেও হাসপাতালের রেজিষ্টারে ৬০ টাকা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।  একই দিনে আশা নামের অন্য এক রোগীর নিকট হতে  তিনটি পরীক্ষার জন্য ১২০ টাকা নেওয়া হলেও রেজিষ্টারে  লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

আসাদুল ও আশার  মতো অসংখ্য রোগীর অভিযোগ,  স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবদ গৃহীত টাকার বড় অংশই সরকারি তহবিলে জমা হচ্ছে না। পরীক্ষার  জন্য ধার্য্যকৃত অর্থের রশিদ রোগীদের দেওয়া হলেও রেজিস্ট্রারে কম টাকা লিপিবদ্ধ করা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রশিদ দিয়ে ফি নেওয়া হলেও রেজিস্ট্রারে উঠানোই  হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একটি সূত্র থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়। রোগী এবং স্হানীয় সূত্রে জানা যায়,  কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবের দায়িত্বে আছেন এমটি ইকবাল হাসান,  ফি জমা নেওয়ার পর রশিদ লেখেন এমএলএসএস চান মিয়া। রশিদ কাটার পর রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। রোগীরা একাধিক  পরীক্ষার বিল জমা দিলেও হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে একটি পরীক্ষা লিপিবদ্ধ করা হয়।অনেক ক্ষেত্রে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করাই হয় না।
গত ৩০ জুলাই শাকিল নামের এক রোগীর তিনটি পরীক্ষার জন্য  ২৫০ টাকা নেওয়া হলেও রেজিস্ট্রারে উঠানো হয়েছে ২০ টাকা।   আসাদুল ও আশার পাশাপাশি ১০ আগষ্ট নাসিম এবং ১২ আগস্ট রাজ ভানুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য  যে টাকা নেওয়া হয়েছে সেগুলিরও একই অবস্থা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে  ২০ হতে ২৫ জন রোগীর এক হতে চারটি পরীক্ষা দিয়ে থাকেন ডাক্তার।  সে মোতাবেক মাসে কমপক্ষে ৬০০ রোগীর  রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।  যার সিংহভাগ অর্থই চলে যাচ্ছে সরকারি তহবিলের বাইরে। ল্যাবের দায়িত্বে থাকা  ইকবাল হাসান অবশ্য এসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ  মোমেনা পারভীন পারুল জানান, ” হাসপাতালের নানা অভিযোগ তদন্তের করতে একটি তদন্ত কমিটি  গঠন করা হয়েছে,  বর্তমান অবস্থায় হাসপাতালের সরকারি অর্থ আত্নসাতের কোন সুযোগ নেই, তারপরও যদি এধরণের ঘটনা ঘটে থাকে  তবে তদন্ত করা হবে।”
এ ব্যাপারে এলাকার মানুষের ধারণা,  যথাযথ তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved
error: Alert: Content is protected by Frilix Group